যেখানে রোদেরা ঘুমায়
"যেখানে রোদেরা ঘুমায়"
-- শরীফুল হাসান
.
আমার সাথে যদি কখনো লেখকের দেখা হয় তবে সবার আগে তাকে বলবো "আপনার এই বই পড়ে আমি দীর্ঘদিন কেঁদেছি। যতবার রুপু, নিবিড় বা অনিন্দিতার কথা মনে পড়েছে ততবার চোখ ভিজে উঠেছে।"
যাইহোক, গল্পের নায়ক হলো রুপু, ইফতেখারউদ্দিন রুপু। নায়িকা হলো অনি, অনিন্দিতা হোসেন। ভিলেন চরিত্র অনেক আছে এই গল্পে। তবে জামাল খন্দকার সবার উপরে। এছাড়াও রুপুর মা, ভাই, অনির বাবা, নিবিড়, শফিক, মিলন, শাহান, জাহাঙ্গীর, মানিক মিয়া, হেনা, নাসরিনের মতো আরো অনেক চরিত্র রয়েছে এবং এদের মধ্যে অনেককে নিয়ে খুব বেশি কিছু না বলা থাকলেও এরাই গল্পের মোড় বারবার ঘুরিয়েছে।
রুপু গুন্ডা, মাস্তান, সন্ত্রাসী, খুনি, মাদক ব্যবসায়ী। মানে অপরাধ জগতের সর্বত্রই তার অবাধ বিচরণ। সাথে সবসময় থাকে তার ছেলেবেলার দুই বন্ধু শফিক আর মিলন। তবে সে সাধারণ মানুষের প্রতি বেশ দয়ালু। এলাকার কোনো ঝামেলা বা অবিচার হলেই সে বেশ শক্ত হাতে তা মেটায়। অনিন্দিতা সবেমাত্র কলেজে উঠেছে। সে সাহসী, সুন্দরি। প্রথম দেখাতেই তাকে রুপুর অসম্ভব পছন্দ হয় এবং সে সোজাভাবে অনিকে জানায় যে সে তাকে বিয়ে করতে চায়। শহরে নতুন আসা নিবিড় জাত কবি, জাত প্রেমিক। সে অনির ক্লাসমেট। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সে মাদকদের নেশায় মাঝে মাঝেই ডুবে যায়। অনির প্রতি তার মারাত্মক দুর্বলতা, বলা যায় সে অনিকে ভালোবাসে।
প্রথমদিকে হয় এতো খুব সাধারণ এক কাহিনী। গড়পড়তা সিনেমা বা ফেসবুক গ্রুপগুলোতে এমন কাহিনী হরহামেশা দেখা যায়। তবে শেষেরদিকটা মনে গেঁথে থাকবে।
রুপু মারা যায়। নিবিড়ও বেঁচে থাকেনা। যে মারা যায়, সে যায়ই। তবে যারা বেঁচে থাকে কষ্টটা হয় তাদের। এই কাহিনি আমাদেরই আশেপাশে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার সংকলন। যেখানে নিবিড়ের মতো ছেলেরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসে না। ছেলে আর কখনো ফিরবেনা জেনেও নিবিড়ের মায়ের মতো মায়েরা ছেলের ঘর গুছিয়ে রাখে, জিনিসপত্র আগলে রাখে। যেখানে অনিন্দিতারা বারান্দায় বসে রুপুদের জন্য অপেক্ষারত থাকে, তবে সেই অপেক্ষা অসীম। রুপুর মা হয়তো রান্না করে এখনো ছেলের জন্য অপেক্ষা করবে, তবে ছেলে ফিরবে না।
মির্জাপুরের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী রুপুর মৃত্যু ঘটে আকস্মিক, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে। কোনো নাটকীয়তা ছাড়া অনাড়ম্বরভাবে তার দেহটা রেললাইনের ধারে পড়ে থাকে। আর অন্যদিকে অনিন্দিতা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে তাকে এক ভীষণ খুশির সংবাদ জানানোর জন্য।
(এরচেয়ে বেশি কিছু বললে বইটি পড়ার আর আগ্রহ থাকবে না। আর হয়, বইয়ের ক্ষেত্রে আমি একটু বেশি সেনসিটিভ। তাই আমার যতটা খারাপ লেগেছে বা কেঁদেছি অন্য কারো এতোটা ট্রাজেডি নাও মনে হয়ে পারে। রেটিং - ★★★★+০.৫)

Comments
Post a Comment