দ্য ট্রাভেলিং ক্যাট ক্রনিকলস
বইয়ের নামঃ দ্য ট্রাভেলিং ক্যাট ক্রনিকলস
অনুবাদঃ সালমান হক
লেখিকাঃ হিরো আরিকাওয়া
প্রকাশনীঃ অবসর
মুদ্রিতমুল্যঃ ৩৭০ টাকা
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২১২
গল্পটা সাতোরু মিয়াওয়াকি আর পোষা বিড়াল "নানা" কে নিয়ে। গল্পটা মানুষ আর প্রাণীর মধ্যকার মমত্ববোধ নিয়ে।
সাতোরু একজন সোজা সরল, দয়ালু ছেলে। সে ছোটো বেলা থেকেই পশুপ্রেমী, বিশেষ করে বিড়ালপ্রেমী। চাকরিসুত্রে সে টোকিওতে থাকে। এপার্টমেন্টের গ্যারেজে সাতোরুর রুপালী ভ্যানটা পার্ক করা থাকতো। সেটার বনেটের উপর থাকতো সে সাদা-কালো রংয়ের খুব সুন্দর একটা বিড়াল। শেষ পর্যন্ত সেটিই তার বিড়াল হয়ে যায়। ভালোবেসে নাম দেয় "নানা"।
আচ্ছা, খুবই সাধারণ গল্প মনে হচ্ছে তাই না?
কিন্তু না। সাতোরু নানা কে পালতে শুরু করার পর, ৫ বছর কেটে যায়। নানাও অসম্ভব ভালোবাসে সাতোরু কে, কল্পনাও করতে পারে না একটি দিন তাকে ছেড়ে থাকবার। তাদের বেশ ভালোই কেটে যাচ্ছিলো একসাথে। তবে সেই সাতোরু ই " অনিবার্য কারণবশত" নানা কে আর তার সাথে রাখতে পারবে না। কিন্তু কি সেই কারণ? একই প্রশ্ন নানার এবং পাঠকের।
ওই রুপালী ভ্যানটা নানার খুব প্রিয় শৈশব থেকেই। সেহেতু সে রাস্তার বিড়াল ছিলো তাই সে অনেক বুদ্ধিমান এবং তার বিবেচনা বোধ খুব বেশি। সে জানে রাস্তার বিড়ালদের অনেক কিছু সহ্য করতে হয়, মেনে নিতে হয়। এইজন্য যখন সে জানতে পারে তার জন্য নতুন মনিব খোজা হচ্ছে সে একটুও বিচলিত হয় না। বরং তার এটা ভেবেই আনন্দ হয় যে, সাতোরুর সাথে প্রিয় ভ্যানে চেপে ঘুরতে যাওয়ার শখটা এবার পূরণ হতে যাচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হয় আসলে? এই প্রশ্নটাই পাঠককে ভাবিয়ে তুলবে।
বইটার পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে মায়া, মমতা, আবেগ৷ আমরা জীবনের অনেক পরিস্থিতিতে গিয়ে এই ধারণায় উপনিত হই যে, "ভালোবাসা দিয়ে কিছুই হয় না, ভালোবাসা বলে কিছু নেই"। আসলে এটা ভুল। লেখিকা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, " ভালোবাসাই পারে সব বদলে দিতে, আঁকড়ে ধরে রাখতে"।
যুগ যুগ ধরেই মানুষ পশুপালন করছে সেই আদিম কাল থেকেই। এইজন্য অনেক দয়ালু মনের মানুষেরাই পশুর প্রতি অসম্ভব টান অনুভব করেন। সাতোরু ও তাদেরই একজন। তবে আমরা শুধু মনিবের মনস্তাত্তিক দিক গুলোই বেশি চিন্তা করি। তবে সেই পালিত হওয়া পশুর মনের কথা চিন্তা করবো না? ওরা অবলা হলেও ওদের অনুভূতি শক্তি নিশ্চয়ই আছে। এইজন্যেই তো কুকুর প্রভুভক্ত প্রাণী, বিড়াল এর হিলিং পাওয়ার আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। নানা নামের বিড়ালটার মনে কি কি চলে, ওরাও যে সব বুঝতে পারে এই ব্যাপারগুলো লেখিকা এতো যুক্তিসহ দেখিয়েছেন যে আপনিও এটা নিয়ে দুই মিনিট ভাবতে বাধ্য হবেন।
বিখ্যাত এই জাপানিজ উপন্যাসের উপর নির্মিত হয়েছে একটি লাইভ অ্যাকশন সিনেমাও। আপনি যদি বিড়ালপ্রেমী হন তাহলে এই অনুবাদ বইটি আপনার জন্য আদর্শ, কারণ বইটি উৎসর্গই করা হয়েছে বাংলাদেশের সকল বিড়ালপ্রেমী এবং বিড়ালদের। আর অনুবাদ নিয়ে কোনো অভিযোগের প্রশ্নই আসে না। সুন্দর সাবলীল অনুবাদ পুরো গল্পটাকে করে তুলেছে প্রাণবন্ত।
তাহলে যদি সাতোরু আর নানার সফর সঙ্গী হতে চান, তবে পড়ে ফেলুন বইটা যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব।
Comments
Post a Comment