জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল
বইয়ের নামঃ জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল
লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭৯
প্রকাশনীঃ অনন্যা
একটা স্কুল, স্কুল ঘেরা মাঠ, গাছগাছালি। স্কুলের ঘন্টার ঢংঢং শব্দ, স্যারের চোখ রাঙানি, প্রশংসা এমন কত কিছুই আমাদের স্কুল জীবনের অবিচ্ছেদ্য স্মৃতি তাই না?
তবে জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল এর গল্পটা কিন্তু কোনো এক ছাত্রের স্মৃতিচারণ নিয়ে নয়। গল্পটা ঘিরে আছে একজন শিক্ষক, এই স্কুলের হেডমাস্টার ফজলুল করিম স্যার কে নিয়ে। তিনি এই স্কুলে আছেন ১৯৬৮ সাল থেকে। করিম স্যারের সমস্ত চিন্তাভাবনাই দেখা যায় এই স্কুলকে ঘিরেই। তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন এই স্কুলের অনেক সুনাম হবে, অনুদান আসবে, দুরদুরান্ত হতে ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসবে। কালের আবর্তনে স্কুলের অবস্থা এখন পড়তির দিকে।
কিন্তু কথায় আছে Always there is a hope. নিঃসঙ্গ করিম স্যার যেনো এই আশাতেই বেচে আছেন। কিছুদিনের মধ্যেই মন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে স্থাপিত হয় "নীলগঞ্জ হাই স্কুল"। ভালো স্টাফ, ভালো বেতন, ভালো পরিবেশের জন্যে জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল এর অনেক ছাত্র শিক্ষক চলে যাচ্ছিলেন পাশের স্কুলে। তাই দিন দিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন করিম স্যার। এই স্কুলের হেডমাস্টার হওয়ার সুবাদে তার অসংখ্য স্মৃতি, ত্যাগ এসব কি করে তিনি ভুলে গিয়ে নতুন করে ভাবেন? সবাই তো আর এক ধাতুতে গড়া হয় না, তাই না? আর শেষে কি ভঙ্গদশার স্কুলটি ঘুরে দাড়াতে পেরেছিলো নাকি হেরে গিয়েছিলো আধুনিকত্বের সাথে তাল না মেলাতে পেরে?
হুমায়ূন আহমেদের এই উপন্যাসটি আমার কাছে বড্ড মায়াকারা লেগেছে বইকি। আহামরি নাও লাগতে পারে, ভুলভ্রান্তিও চোখে পড়তে পারে। তবে আপনি মায়ায় সিক্ত হবেন তা বলতে পারি। ছাত্রের চোখে স্কুল কেমন সেই গল্প কতই শুনি আমরা, অনেক ক্ষেত্রেই মনে হয় যেনো জীবন থেকে নেয়া। কিন্তু একজন প্রধান শিক্ষকের চোখে তার কর্মস্থল খানি ঠিক কতটা ভালোবাসার, কতটা শ্রদ্ধার, কতটা মায়ার--সে কথা আমরা জানি কজনা?

Comments
Post a Comment