Posts

সারেং বৌ

Image
বই:সারেং বৌ লেখক:শহীদুল্লা কায়সার। ধরন:চিরায়ত উপন্যাস রেটিং:৪/৫   ”সারেং বৌ” উপন্যাস টি লেখক শহীদুল্লা কায়সার রাজবন্দী থাকাকালীন রচনা করেছেন।এই উপন্যাসটি আলোচনায় আসে যখন উপন্যাস টি চলচ্চিত্র আকারে দর্শকদের মাঝে আসে তখন।তবে চলচ্চিত্র এবং বই কে একে অন্যের সাথে তুলনা না দেয়াই শ্রেয়। শুরুতে জেনে নেই সারেং কি?যারা জাহাজে চাকরি করে তাদের সারেং বলে।এখানে সারেং হলো নবিতুন এর স্বামী কদম।সকালের কাছে পরিচিত কদম সারেং হিসেবে। এই উপন্যাস টি মূলত নাবিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও নগর-বন্দর এর বর্ণনায় ঠাসা।সেই সাথে রয়েছে করাল নদীর তীরবর্তী বামনছড়ি গ্রামের কদমের বউ নবিতুন ও তার মেয়ে আককির জীবন সংগ্রাম এর কাহিনী । কদম সারেং জাহাজের কাজে বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকে এবং জাহাজে জাহাজে ঘুরে বেড়ায়।মাঝেমধ্যে দিন কয়েক এর জন্য বাড়ি আসে তখন আনন্দ আসে বাঁধ ভেঙে ।খুশির জোয়ারে ভাসে ছোট পরিবার টি। কিন্তু, বেশ কিছুদিন হলো কদমের কোনো খোঁজ নেই,নেই কোনো চিঠি-পত্র ও। অভাগি নবিতুন কিভাবে তার সংসার চালাবে? তাছাড়া, গ্রাম বাংলার এসব অসহায় নারীদের দিকে সর্বদা কিছু শকুনে চোখ পরে থাকে। কিন্তু নবিতুন শত দুঃখ - দৈন্যতার মাঝ...

দ্য ট্রাভেলিং ক্যাট ক্রনিকলস

Image
বইয়ের নামঃ  দ্য ট্রাভেলিং ক্যাট ক্রনিকলস অনুবাদঃ সালমান হক লেখিকাঃ হিরো আরিকাওয়া প্রকাশনীঃ অবসর মুদ্রিতমুল্যঃ ৩৭০ টাকা পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২১২ গল্পটা সাতোরু মিয়াওয়াকি আর পোষা বিড়াল "নানা" কে নিয়ে। গল্পটা মানুষ আর প্রাণীর মধ্যকার মমত্ববোধ নিয়ে । সাতোরু একজন সোজা সরল, দয়ালু ছেলে। সে ছোটো বেলা থেকেই পশুপ্রেমী, বিশেষ করে বিড়ালপ্রেমী। চাকরিসুত্রে সে টোকিওতে থাকে। এপার্টমেন্টের গ্যারেজে সাতোরুর রুপালী ভ্যানটা পার্ক করা থাকতো। সেটার বনেটের উপর থাকতো সে সাদা-কালো রংয়ের খুব সুন্দর একটা বিড়াল। শেষ পর্যন্ত সেটিই তার বিড়াল হয়ে যায়। ভালোবেসে নাম দেয় "নানা"। আচ্ছা, খুবই সাধারণ গল্প মনে হচ্ছে তাই না? কিন্তু না। সাতোরু নানা কে পালতে শুরু করার পর, ৫ বছর কেটে যায়। নানাও অসম্ভব ভালোবাসে সাতোরু কে, কল্পনাও করতে পারে না একটি দিন তাকে ছেড়ে থাকবার। তাদের বেশ ভালোই কেটে যাচ্ছিলো একসাথে। তবে সেই সাতোরু ই " অনিবার্য কারণবশত" নানা কে আর তার সাথে রাখতে পারবে না। কিন্তু কি সেই কারণ? একই প্রশ্ন নানার এবং পাঠকের। ওই রুপালী ভ্যানটা নানার খুব প্রিয় শৈশব থেকেই। সেহেতু সে রাস্তার বিড়াল ছিলো তাই স...

ঢাকায় ফাগুন

Image
বই-ঢাকায় ফাগুন লেখক-হাসান ইনাম ধরণ-প্যারাসাইকোলজিক্যাল উপন্যাস পৃষ্ঠা-১৯২ রেটিং-৩.৫/৫ প্রকাশনা-বাতিঘর   ফাগুনের গুণে সেগুনবাগানে আগুন বেগুন পোড়ে, ঠুনকো ঠাটের ঠাঠারিবাজারে ঠাঠা ঠেকিয়াছে ঠিক; ঢাকার ঢেকিতে ঢাকের ঢেকুর ঢিক্কিরাতে ঢোঁড়ে, সং বংশালে বংশের পালে বংশে বেধেঁছে শিক। ................ বুদ্ধদেব বসু আওড়াতে আওড়াতে রচনা করে ফেললেন এক রহস্যময়ী কবিতা।কবিতাটির বিষয়বস্তু হলো ঢাকা শহর! সেই কবিতার পঙক্তিই চিঠির পাতায় জায়গা করে নিল।আর সেই চিঠি একেবারে ঊনিশ শ' বিয়াল্লিশ থেকে হঠাৎ দুই হাজার বিশে চলে এলো।চিঠি এলো কালজয়ী গল্প লেখার স্বপ্নে বিভোর এক লেখক হাসান মাহফুজের দরজায়! দরজার কড়া নাড়ল এক আগুন্তক।ভুল ঠিকানা নাকি ভুল সময়?রহস্যময় এই আগুন্তক কে! এই রহস্য নিয়ে এক রহস্যময়ী প্লটে উপন্যাসের কাহিনী আগাতে লাগলো।পাঠক বইটি পড়ার মাধ্যমে আবিষ্কার করতে পারবে ঢাকার একেক সময়ের একেক ইতিহাসের অল্প কিছু বর্ণনা।কিন্ত,এই বর্ণনা পাঠক পাবে কিছুটা থ্রিলের মিশ্রণে! ইতিহাসের সাথে রহস্যের মিশ্রণ থ্রিলার পাঠকদের কাছে হয়তো নতুন কিছু নয়।তাই যারা নিয়মিত থ্রিলার পাঠক তাদের কাছে উপন্যাসটি কিছুটা খাপছাড়া মনে হতে পারে।কারণ ...

যেখানে রোদেরা ঘুমায়

Image
 "যেখানে রোদেরা ঘুমায়" -- শরীফুল হাসান . আমার সাথে যদি কখনো লেখকের দেখা হয় তবে সবার আগে তাকে বলবো "আপনার এই বই পড়ে আমি দীর্ঘদিন কেঁদেছি। যতবার রুপু, নিবিড় বা অনিন্দিতার কথা মনে পড়েছে ততবার চোখ ভিজে উঠেছে।" যাইহোক, গল্পের নায়ক হলো রুপু, ইফতেখারউদ্দিন রুপু। নায়িকা হলো অনি, অনিন্দিতা হোসেন। ভিলেন চরিত্র অনেক আছে এই গল্পে। তবে জামাল খন্দকার সবার উপরে। এছাড়াও রুপুর মা, ভাই, অনির বাবা, নিবিড়, শফিক, মিলন, শাহান, জাহাঙ্গীর, মানিক মিয়া, হেনা, নাসরিনের মতো আরো অনেক চরিত্র রয়েছে এবং এদের মধ্যে অনেককে নিয়ে খুব বেশি কিছু না বলা থাকলেও এরাই গল্পের মোড় বারবার ঘুরিয়েছে। রুপু গুন্ডা, মাস্তান, সন্ত্রাসী, খুনি, মাদক ব্যবসায়ী। মানে অপরাধ জগতের সর্বত্রই তার অবাধ বিচরণ। সাথে সবসময় থাকে তার ছেলেবেলার দুই বন্ধু শফিক আর মিলন। তবে সে সাধারণ মানুষের প্রতি বেশ দয়ালু। এলাকার কোনো ঝামেলা বা অবিচার হলেই সে বেশ শক্ত হাতে তা মেটায়। অনিন্দিতা সবেমাত্র কলেজে উঠেছে। সে সাহসী, সুন্দরি। প্রথম দেখাতেই তাকে রুপুর অসম্ভব পছন্দ হয় এবং সে সোজাভাবে অনিকে জানায় যে সে তাকে বিয়ে করতে চায়। শহরে নতুন আসা নিবিড় জাত...

জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল

Image
বইয়ের নামঃ জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল  লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭৯ প্রকাশনীঃ অনন্যা একটা স্কুল, স্কুল ঘেরা মাঠ, গাছগাছালি। স্কুলের ঘন্টার ঢংঢং শব্দ, স্যারের চোখ রাঙানি, প্রশংসা এমন কত কিছুই আমাদের স্কুল জীবনের অবিচ্ছেদ্য স্মৃতি তাই না?  তবে জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হাই স্কুল এর গল্পটা কিন্তু কোনো এক ছাত্রের স্মৃতিচারণ নিয়ে নয়। গল্পটা ঘিরে আছে একজন শিক্ষক, এই স্কুলের হেডমাস্টার ফজলুল করিম স্যার কে নিয়ে। তিনি এই স্কুলে আছেন ১৯৬৮ সাল থেকে। করিম স্যারের সমস্ত চিন্তাভাবনাই দেখা যায় এই স্কুলকে ঘিরেই। তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন এই স্কুলের অনেক সুনাম হবে, অনুদান আসবে, দুরদুরান্ত হতে ছাত্র-ছাত্রী পড়তে আসবে। কালের আবর্তনে স্কুলের অবস্থা এখন পড়তির দিকে।  কিন্তু কথায় আছে Always there is a hope. নিঃসঙ্গ করিম স্যার যেনো এই আশাতেই বেচে আছেন। কিছুদিনের মধ্যেই মন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে স্থাপিত হয় "নীলগঞ্জ হাই স্কুল"। ভালো স্টাফ, ভালো বেতন, ভালো পরিবেশের জন্যে জীবনকৃষ্ণ মেমোরিয়াল এর অনেক ছাত্র শিক্ষক চলে যাচ্ছিলেন পাশের স্কুলে। তাই দিন দিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন করিম স্যার। এই স্কুলের হে...

সম্রাট

Image
বইয়ের নামঃ সম্রাট লেখকের নামঃ হুমায়ূন আহমেদ  ধরনঃ থ্রিলার ও এডভ্যাঞ্চার উপন্যাস প্রকাশনীঃ জ্ঞানকোষ প্রকাশনি পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৮৮ মুদ্রিত মূল্যঃ ১৩০ ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৫/৫ ''মানুষকে ঘৃণা করার অপরাধে কখনো কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় নি, অথচ মানুষকে ভালোবাসার অপরাধে অতীতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে!               ভবিষ্যতেও হয়ত হবে!'' সম্রাট!  কালো সোহেলি আফ্রিকানদের নেতা প্রবাদপুরুষ জুলিয়াস নিশো। মুকুটহীন সম্রাট।  গল্পটি তাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। যিনি কিনা মানুষকে শাসন করতে নয় বরং ভালবাসতে পছন্দ করতেন। কিছু কিছু অত্যন্ত বুদ্ধিমান মানুষ আছে যাদের বোকার মতো দেখায়। জেনারেল ডোফা সেরকম এক মানুষ। আর তাই তো সম্রাট নিশোর ভালাবাসার ব্যাপারখানি মার্কিন জেনারেল ডোফার ভালো লাগেনি। তিনি বরং তীব্র শাসন এর পক্ষে। আর এজন্যই তিনি সেনাবাহিনীর একজন অফিসারকে দিয়ে সম্রাট নিশোকে জেলখানা থেকে ধরে নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে ফোর্টনকে নামক এক শহরে নিয়ে বন্দি করে রাখলেন। এবং কিছুদিন পর বেতার মাধ্যমে প্রচার করলেন যে, ''জুলিয়াস নিশো আর নেই। তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আলজেরিয়...

রিভিউ - মেমসাহেব

Image
  বইয়ের নামঃ মেমসাহেব   লেখকঃ নিমাই ভট্টাচার্য    রেটিংঃ ⭐⭐⭐✨ "মেজদি,মা'কে একটু বুঝিয়ে বলিস,রেডিমেড জামা-কাপড় দেখতে একটু চকচক করে কিন্তু বেশিদিন টেকে না,তার চাইতে ছিট কিনে মাপমত নিজের হাতে তৈরি করা জিনিস অনেক ভালো হয় অনেক বেশি সুন্দর হয়।"-- মেমসাহেব, নিমাই ভট্টাচার্য । . . উপন্যাসটি শুরু হয় বৌদি কে চিঠি লিখার মধ্য দিয়ে। বলতে গেলে পুরো উপন্যাস ই ছিল চিঠি দিয়ে ভরা আর কিছু অতীতের স্মৃতি। উপন্যাসের প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত শুধু একজনের কথা ই বলা হচ্ছিল।  সে হলো মেমসাহেব। বাচ্চুর জন্য মেমসাহেব তার সবকিছু হলেও বেশির ভাগের কাছে ছিল সে রহস্য। তাই যখনই পরিবারের সকলে তার বিয়ের জন্য বলা শুরু করে। তখনই সে বাধ্য হয়ে তার প্রিয় দোলা বৌদির কাছে তার প্রিয় মেমসাহেব এর কথা খুলে বলে। তার সাথে কাটানো মূহুর্ত, স্মৃতি সবকিছুই দোলা বৌদির কাছে চিঠির মাধ্যমে জানায়। বাচ্চুর কি তার প্রিয় মেমসাহেব এর সাথে বিয়ে হবে? আচ্ছা বাচ্চুর মেমসাহেব আসলে কে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে অবশ্যই বইটি পড়তে হবে।  পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ————————— উপন্যাসটিতে অনেক সুন্দরভাবে একজন পুরুষের সাফল্যের পেছ...